বাঙালি সংস্কৃতিতে 'মীরজাফর' নামটি এখন আর কোনো সাধারণ নাম নয়, বরং এটি চরম বিশ্বাসঘাতকতা বা বেঈমানির একটি সমার্থক শব্দ। ১৭৫৭ সালের পলাশীর প্রান্তরে নবাব সিরাজউদ্দৌলার প্রধান সেনাপতি হয়েও তিনি যে ভূমিকা পালন করেছিলেন, তার ফলে ভারত উপমহাদেশ দীর্ঘ ১৯০ বছরের পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়। কেন আজও তাকে নিয়ে মানুষের মনে এত ঘৃণা, তার বিস্তারিত কারণ নিচে তুলে ধরা হলো।

Image
 

১. পলাশীর প্রান্তরে নীরব বিশ্বাসঘাতকতা

১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন পলাশীর যুদ্ধে মীরজাফর নবাবের পক্ষে বিশাল সৈন্যবাহিনীর নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। কিন্তু যুদ্ধের ময়দানে তিনি তার সৈন্যদল নিয়ে মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে থাকেন এবং লর্ড ক্লাইভের ব্রিটিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেননি। তার এই ইচ্ছাকৃত নিষ্ক্রিয়তা নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় নিশ্চিত করে এবং ইংরেজদের জয়ী করে।

২. স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হওয়া

মীরজাফর কেবল একজন নবাবকে হারাননি, বরং তিনি বাংলার তথা ভারতের স্বাধীনতার পথ রুদ্ধ করে দিয়েছিলেন। এই যুদ্ধের পর ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এ দেশের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পায়। ব্যক্তিগত স্বার্থ এবং ক্ষমতার লোভে তিনি দেশের ভাগ্য ব্রিটিশদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন, যা ইতিহাসের জঘন্যতম অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়।

৩. পুতুল নবাব ও চরম অবমাননা

নবাব হওয়ার পর মীরজাফর বুঝতে পারেন যে তিনি আসলে ইংরেজদের হাতের পুতুল মাত্র। ইংরেজদের বিশাল অঙ্কের পাওনা মেটাতে গিয়ে তিনি বাংলার রাজকোষ শূন্য করে দেন। এমনকি তার রাজপ্রাসাদের প্রধান ফটক আজও 'নিমক হারাম দেউড়ি' নামে পরিচিত, যা আজও তার কৃতকর্মের সাক্ষ্য বহন করে চলেছে।

৪. বাঙালির হৃদয়ে অমর ঘৃণা

ইতিহাসে অনেক রাজা বা সেনাপতি পরাজিত হয়েছেন, কিন্তু মীরজাফরকে মানুষ ঘৃণা করে কারণ তিনি ঘরের শত্রু হয়ে বাইরের শক্তিকে মদত দিয়েছিলেন। আজও কোনো বাঙালি পরিবারে কেউ মীরজাফর নাম রাখে না। বিশ্বাসঘাতকতার এই কালিমা তার নাম থেকে কোনোদিনও মুছে যাবে না।

BRIDAL IMAGE'S
𝓖𝓸𝓹𝓪𝓵 𝓑𝓪𝓵𝓪
Freelancer Photographer
Random Blogger Posts
Blog Categories

Special News

Music Related

Food Related

Wedding Photography Packages

Gopalrockunplugge Production House

Capture Your Special Moments With Us 💖

✔ Pre-Wedding Shoot
✔ Wedding Full Coverage
✔ Cinematic Video
✔ Album Design & Editing
✔ Drone Photography Available

⚡ Limited Slots Available – Hurry Up!