Image
 

সুন্দরবনের শেষ ফাঁদ (চতুর্থ পর্ব)

মশালের আলোয় চারপাশটা যখন দিনের মতো পরিষ্কার হয়ে গেল, পরেশনাথ দেখলেন তাঁরা প্রায় তিরিশজন সশস্ত্র ডাকাত দ্বারা পরিবেষ্টিত। রত্নাকর মন্দিরের এক ভাঙা স্তম্ভের আড়াল থেকে বেরিয়ে এল। তার চোখেমুখে এখন আর ভয়ের লেশমাত্র নেই, বরং এক পৈশাচিক আনন্দ খেলা করছে। রত্নাকর চিৎকার করে বলল, "পরেশ বাবু, কোলকাতার বাবুরা ভেবেছিল লোনা জলের বাঘকে তারা খাঁচায় পুরবে। কিন্তু তারা জানে না, রত্নাকর খাঁচায় ধরা দেয় না, সে শুধু শিকার করতে জানে!"

অসম লড়াই এবং সাহসিকতা

শুরু হলো এক অসম যুদ্ধ। একদিকে আধুনিক পুলিশি প্রশিক্ষণ, অন্যদিকে ডাকাতদের বুনো আক্রমণ। পরেশনাথের কনস্টেবলরা বীরত্বের সাথে লড়াই করলেও সংখ্যার চাপে তারা পিছিয়ে পড়তে শুরু করল। পরেশনাথ তাঁর শেষ কয়েক রাউন্ড গুলি খুব হিসেব করে চালালেন। তিনি জানতেন, রত্নাকরকে খতম করতে না পারলে এই চক্র ভাঙা সম্ভব নয়। ধোঁওয়া আর মশালের পোড়া গন্ধে মন্দিরের বাতাস ভারী হয়ে উঠল। হঠাৎ এক ডাকাতের বল্লমের আঘাতে পরেশনাথের কাঁধ রক্তাক্ত হলো, কিন্তু তিনি যন্ত্রণায় নুয়ে না পড়ে পাল্টা আঘাতে ডাকাতটিকে ধরাশায়ী করলেন।

সেই প্রভাবশালী শত্রুর পরিচয়

লড়াইয়ের মাঝে রত্নাকরের পকেট থেকে একটা চিঠি খসে পড়ল। পরেশনাথ এক ঝটকায় সেটা কুড়িয়ে নিলেন। চিঠির উপরের মোহর দেখে তাঁর কপালে ভাঁজ পড়ল— এটি স্বয়ং কোলকাতার একজন পদস্থ ব্রিটিশ কমিশনারের দপ্তরের। পরেশনাথ বুঝতে পারলেন, কেন রত্নাকর এতদিন পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিল। রত্নাকর আসলে ব্রিটিশ প্রশাসনের একটি দুর্নীতির অংশ, যে সুন্দরবনের মূল্যবান কাঠ আর সম্পদ পাচারে সাহায্য করত। এই চিঠিই এখন রত্নাকর এবং তার পেছনের রাঘব বোয়ালদের ফাঁসির দড়ি হতে পারে।

মৃত্যুর মুখোমুখি

রত্নাকর যখন দেখল তার গোপন নথি পরেশনাথের হাতে, সে মরিয়া হয়ে উঠল। সে তার বাকি সঙ্গীদের নির্দেশ দিল জ্যান্ত পুড়িয়ে মারার জন্য মন্দিরে আগুন লাগিয়ে দিতে। মুহূর্তের মধ্যে শুকনো লতাপাতা আর মন্দিরের কাঠের কাঠামোতে আগুন ধরে গেল। আগুনের লেলিহান শিখা পরেশনাথ আর তাঁর সঙ্গীদের গ্রাস করতে এগোচ্ছে। একদিকে রত্নাকরের তলোয়ার, অন্যদিকে ধেয়ে আসা আগুনের পাহাড়। পরেশনাথ কি পারবেন এই অগ্নিকুণ্ড থেকে বেরিয়ে রত্নাকরকে শেষ সাজা দিতে? নাকি এই প্রাচীন মন্দিরই হবে তাঁর শেষ শয্যা? (চলবে শেষ পর্বে...)